সাকুরার স্বাদ নিতে এপ্রিলের প্রথম দিনে কলকাতা এয়ারপোর্ট থেকে রাত সাড়ে এগারোটায় সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের বিমানে চার ঘন্টায় সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। সেখান থেকে কানেকটিং ফ্লাইট ধরে সাত ঘন্টায় স্থানীয় সময় বিকেল পৌনে চারটেয় পৌছে গেলাম জাপানের রাজধানী টোকিওর হানেডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। বিমানবন্দরের বাইরে আসতেই প্রথম স্বাদ পেলাম সাকুরা তথা চেরি ফুল ও জাপানি মনোরেলের। সন্ধ্যায় এসে গেলাম টোকিও উপসাগরে অবস্থিত আলোয় উদ্ভাসিত দ্বীপ শহর ওডাইবাতে। আলোর বর্ণচ্ছটায় সাগরপাড়ের বরো বরো সব অট্টালিকার সারি, রেইনবো ব্রিজ, স্ট্যাচু অফ লিবার্টি, ফুজি টিভি ভবন এক লহমায় মনকে কেড়ে নিল।
পরদিন সকালে ভ্রমণের প্রথম স্থান টোকিওর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত জাপান সম্রাটের সরকারি বাসভবন ইম্পেরিয়াল প্যালেস যা জাপানের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। টোকিও রেলওয়ে স্টেশন দেশের অন্যতম ব্যস্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন কেন্দ্র যেখানে শিনকানসেন বা বুলেট ট্রেন লাইনের সংযোগ রয়েছে। সেন্সো-জি হলো টোকিওর আসাকুসা অঞ্চলে, সুমিদা নদীর তীরে অবস্থিত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ মন্দির। সেন্সো-জি মন্দিরটি তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং সুন্দর স্থাপত্যের জন্য বিখ্যাত। মন্দিরের কামিনারিমন গেট, পাঁচতলা পেগোডা, এবং নাকামিসে-ডোরি রাস্তাটি পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। পুরো মন্দির চত্বর জুড়ে অসংখ্য সাদা ও গোলাপি চেরি ফুল গাছ; ভরা বসন্তে তার রূপের ডালি মেলে ধরেছে। এখানকার শপিং স্ট্রিট থেকে জাপানি মুদ্রা ইয়েনের বিনিময়ে মন্দিরের একটি মেমেন্টো কিনে নিলাম।

মন্দির থেকে বেরিয়ে একটু এগিয়ে গিয়ে দেখতে পেলাম বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু টাওয়ার ‘টোকিও স্কাইট্রি’ যা টোকিওতে টেলিভিশন সম্প্রচার এবং টেলিযোগাযোগের কাজে ব্যাবহৃত হয়। পরবর্তী গন্তব্য ছিল ভারতবাসীর আবেগের জায়গা ‘রেনকোজি মন্দির’ যেখানে স্বাধীনতা সংগ্রামী সুভাষচন্দ্র বসুর অস্থিভস্ম রক্ষিত আছে। মন্দির প্রাঙ্গনে নেতাজির একটি আবক্ষ মূর্তি রয়েছে। টোকিওর ট্রাফিক চৌরাস্তার মোড়, “শিবুয়া স্ক্র্যাম্বল ক্রসিং” হল বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত পথচারী ক্রসিং, যেখানে একসঙ্গে ৩০০০ জন মানুষ পারাপার করেন। স্থানটি পর্যটকদের কাছে শপিং, ডাইনিং ও ঘোরাঘুরির জন্য খুবই আকর্ষণীয়।
প্যারিসের বিখ্যাত আইফেল টাওয়ারের অনুকরণে তৈরি সাদা ও কমলা রঙের টোকিও টাওয়ারে যখন পৌছলাম তখন বিকেল হয়ে গেছে। তাই দেরি না করে লিফটে করে দ্রুত টাওয়ারের উপরে উঠে গেলাম। উপর থেকে বিশাল সব অট্টালিকায় ভর্তি টোকিও শহরের অসাধারণ রূপ ভোলার নয়। উপরে খাওয়াদাওয়ার জন্য রেস্তোরা ও কেনাকাটার জন্য কিছু আউটলেটও আছে। টাওয়ার থেকে নেমে পাশের চেরি ফুলের বাগানে কিছুক্ষনের জন্য হারিয়ে গেলাম। নীল, সাদা ও সোনালী আলোয় সজ্জিত রাতের টোকিও টাওয়ারকে বেশ সুন্দর দেখাচ্ছিল।
চতুর্থ দিন ভোরে টোকিওর তমা নদীর পার ধরে হাঁটতে শুরু করলাম। নদীর ওপারে হানেডা বিমানবন্দরে ফ্লাইটের ওঠানামা চলছিল আর বাইরে চলছিল মনোরেলের যাতায়াত। দুজন জাপানিকে নদীতে হুইল দিয়ে মাছ ধরতে দেখা গেল। নব সূর্যালোকে তমা নদীর পার দিয়ে চেরী ফুলের গাছের সারি সকালের সৌন্দর্যে চার চাঁদ লাগিয়ে দিয়েছিল।
টোকিও থেকে ৯৭কিমি দূরে হাকোনেতে অবস্থিত পাহাড়ে ঘেরা মনোরম আশি লেক। বোটে চেপে অপূর্ব সুন্দর আশি হ্রদের নীল জলে ভেসে পড়লাম। এরপর পাশেই অবস্থিত হাকোনে কেবল কার স্টেশন থেকে রোপওয়েতে করে হাকোনে পর্বতের উপরে কমাগাটাকে রোপওয়ে টপ স্টেশনে পৌছলাম। এখান থেকে পুরো আশি লেকটি দৃশ্যমান এবং চারিপাশের পাহাড়ি পরিবেশের রূপ মনের ক্যানভাসে ছবি হয়ে থাকল। পায়ে হেঁটে দেখে নিলাম পাহাড়ের উপরে অবস্থিত হাকোনে মতটসুমিয়া শ্রাইন।
এরপর যাত্রা শুরু হল সুন্দর শঙ্কু আকারের জাপানের সর্বোচ্চ এবং পবিত্র পর্বত মাউন্ট ফুজির উদ্দেশে। যাওয়ার পথের দুধারে বরফের ছড়াছড়ি ও কিছু জায়গায় রাস্তায় মেশিনের সাহায্যে বরফ পরিষ্কারের কাজ চলছিল। বরফের আধিক্যের জন্য ফার্স্ট স্টেপ পর্যন্ত যাবার অনুমতি পেলাম। দূর থেকে স্বেত শুভ্র বরফে মোড়া মাউন্ট ফুজির চূড়া দেখে মনে হচ্ছিল যেন মাথায় টোপর পরে আছে।
ফুজিসান ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সেন্টার হল জাপানের সংস্কৃতি ও প্রকৃতির প্রতীক একটি চমৎকার তথ্য কেন্দ্র যেখানে এই অঞ্চলের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সম্পর্কে জানা যায়। এখান থেকে সন্ধ্যায় পৌছলাম প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে শিজুওকা শহরে, সেখানেই রাত্রিবাস। ডিনারে জাপানি খাবারের স্বাদ নিলাম। জনপ্রিয় জাপানি খাবারের মধ্যে ছিল সুশি, টেম্পুরা, রামেন, সোবা, উদন, সুকিয়াকি, মিসো স্যুপ এবং ওনিগিরি।

পরদিন ভোরে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে ঘুরে দেখে নিলাম নাগিসা পার্ক, ইতু অরেঞ্জ বিচ। শিজুওকা শহরের ইতু নদির পারে গোলাপি চেরিফুলের বাগানে হাঁটতে হাঁটতে মন আবিষ্ট হয়ে যাচ্ছিল।
মাউন্ট ফুজির অপরূপ দৃশ্য দেখতে দেখতে ২৮২কিমি পথ পেরিয়ে পৌছালাম মধ্য জাপানের নাগোয়া শহরের অবস্থিত টয়োটা কমেমোরেটিভ মিউজিয়াম অফ ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড টেকনোলজি যা টয়োটা টেকনো মিউজিয়াম নামেও পরিচিত। প্রকাণ্ড এই তাক লাগানো মিউজিয়ামে, কাপড় শিল্প থেকে বিশ্বখ্যাত গাড়ি নির্মাতা টয়োটা কোম্পানির গড়ে ওঠার সম্পূর্ণ ইতিহাস দেখানো আছে।
বিকেলে নাগোয়া স্টেশন থেকে বুলেট ট্রেনে চেপে ২৯৫কিমি প্রতি ঘন্টা বেগে ছুটে সন্ধ্যায় হিরোশিমা স্টেশনে পৌছলাম।
ষষ্ঠ দিনে ভোরে হাঁটতে বেরিয়ে অতি প্রশস্ত রাস্তা, ধাবমান ট্রাম গাড়ি ও বড় বড় অট্টালিকার হিরোশিমা শহরকে দেখে তাক লেগে যাচ্ছিল। পুরানো স্মৃতিকে পিছনে ফেলে হিরোশিমা উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছে গেছে। কিওবাশি নদীর তীরে সাকুরার বাগান সকালের স্নিগ্ধতাকে আবেশী করে তুলল।
এরপর মিয়াজিমা ফেরি ঘাট থেকে বোটে করে পৌঁছে গেলাম ইতসুকুশিমা দ্বীপের নীল জলের অপরূপ মিকাসা বীচে। দ্বীপটি তার প্রাকৃতিক দৃশ্য, ঐতিহাসিক ইতসুকুশিমা মন্দির এবং সমুদ্রের মধ্যে তোরি গেটের জন্য একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। মন্দিরে একটি জাপানি দম্পতির বিবাহ অনুষ্ঠান দেখলাম। কেনাকাটা ও খাওয়াদাওয়ার জন্য এখানে বেশ কিছু দোকানপাট আছে। বসন্তে চেরিফুল এই দ্বীপেও তার ডালি সাজিয়েছে।
বোটে করে একই পথে ফিরে মোতয়াসু নদীর তীরে চেরিফুলের বাগানের মধ্যে দিয়ে হেঁটে হিরোশিমা পিস মেমোরিয়াল মিউজিয়ামে উপস্থিত হলাম, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষার্ধে ১৯৪৫ সালের ৬ই আগস্ট স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ১৫মিনিটে আমেরিকান বিমান বাহিনীর পারমাণবিক বোমা হামলার স্মৃতিতে নির্মিত। পুরো মিউজিয়াম জুড়ে সেই ধংসলীলার সমস্ত স্মৃতি দেখে অনেকের চোখে জল চলে আসছিল। এখানে সেই নিক্ষিপ্ত পারমাণবিক বোমা লিটল বয়ের শেলের টুকরা রাখা আছে যা ছুঁয়ে দেখা যায়। মিউজিয়ামের পাশে রয়েছে হিরোশিমা অ্যাটমিক বোম্ব ডোম ভবন যা পারমাণবিক বোমা হামলায় বেঁচে যাওয়া একমাত্র কাঠামো। এটি আজও বোমা হামলায় নিহতদের এবং পারমাণবিক যুদ্ধের ভয়াবহতার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
বিকেলে পৌছলাম হিরোশিমা স্টেশনে যেখান থেকে আবার বুলেট ট্রেনে করে সন্ধ্যায় ৩৩২কিমি দূরে ওসাকা স্টেশনে চলে এলাম। জাপানের বুলেট ট্রেন বা শিনকানসেন তার গতি, নিয়ামনুবর্তিতা, পরিসেবা ও স্বাচ্ছন্দের জন্য বিখ্যাত। আমাদের পরবর্তী তিন দিনের আস্তানা জাপানের এই বাণিজ্যিক নগরী ওসাকা।

পরদিন সকালে ওসাকা থেকে জাপানের পুরাতন রাজধানী কিয়োটোর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করলাম। কাটসুরা নদীর উপর কাঠের সেতু টোগেটসুকিও থেকে নদীর দুপাশে চেরিফুল গাছের সারি দেখতে পেলাম। বসন্তে পাহাড়ের গায়ে ফল কালারের গাছ ও চেরিফুলের সমারোহ স্থানটিকে পর্যটক মুখর করে তুলেছে।
নাকানোশিমা পার্ক ওসাকা শহরের কেন্দ্রস্থলে দোজিমা এবং তোসাহোরি নদীর মধ্যে অবস্থিত একটি মনোরম স্থান। এখানে একটি সুন্দর গোলাপ বাগান, লেক, টেনরিউ-জি মন্দির এবং ওসাকা সেন্ট্রাল পাবলিক হল-এর মতো আকর্ষণীয় স্থান রয়েছে। চেরিফুলের বাগানের ভিতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে আরাশিয়ামা বাঁশের বনে উপস্থিত হলাম। ঘন সবুজ বিশাল আকারের মোসো বাঁশ দিয়ে তৈরি এই বনে রয়েছে নোনোমিয়া শ্রাইন মন্দির আর তার পাশের রেল লাইন দিয়ে অনবরত ছুটে চলে ট্রেন।
কিয়োকো-চি লেকের মধ্যে অবস্থিত অপূর্ব সুন্দর কিনকাকু-জি যা "গোল্ডেন প্যাভিলিয়ন মন্দির" নামেও পরিচিত, জাপানের কিয়োটোতে অবস্থিত একটি বিখ্যাত বৌদ্ধ মন্দির। মন্দিরের উপরের দুটি তলা সোনার পাত দিয়ে আচ্ছাদিত। কিনকাকু-জি স্বর্ণ মন্দির চত্ত্বরে দর্শনীয় স্থানগুলির মধ্যে রয়েছে হোয়াইট স্নেক মাউন্ড, উইশিং স্ট্যাচু, ফুডো-ডু মন্দির প্রভৃতি।
ফুশিমি ইনারি তাইশা হল জাপানের কিয়োটোতে অবস্থিত আরেকটি দর্শনীয় মন্দির। ফুশিমি ইনারি কয়েক হাজার সুদৃশ্য কমলা রঙ্গের তোরি গেটের জন্য বিখ্যাত, পথ একটি পাহাড়ের উপরে উঠে গেছে। পুরো মন্দির চত্ত্বরটি অনেকটা জায়গা নিয়ে বিস্তৃত এবং এখান থেকে বেরোনোর গেটে দুটি শেয়ালের মূর্তি আছে, একটির মুখে তালা ও আরেকটির মুখে চাবি।
অষ্টম দিনে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে ওসাকার অলিগলি একটু ঘুরে দেখলাম। জাপানিরা খুব ফুল ভালোবাসেন তাই অধিকাংশ বাড়ির সামনে ফুলের গাছ আছে। শহরের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীগুলির তীরে অসংখ্য চেরিফুলের গাছ দেখা যায়।
এরপর সকাল সকাল পৌঁছে গেলাম ওসাকা থেকে ৩৫কিমি দূরে জাপানের নারা শহরে, ওয়াকাকুসা পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত নারা পার্কে। এই পার্কটি তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক টোডাই-জি মন্দির, চেরিফুলের বাগান এবং বন্য হরিণের জন্য পরিচিত। এখানে অসংখ্য বন্য হরিণ প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়, যা পর্যটকদের জন্য একটি বড় আকর্ষণ। টোডাই-জি যা "গ্রেট বুদ্ধ হল" নামেও পরিচিত, যেখানে বিশ্বের বৃহত্তম ব্রোঞ্জের তৈরি বুদ্ধের মূর্তি রয়েছে।
ওসাকা উপসাগরের কাছে টেম্পোজান হারবারে অবস্থিত ‘ওসাকা অ্যাকোয়ারিয়াম কাইয়ুকান’ বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এবং আকর্ষণীয় অ্যাকোয়ারিয়ামগুলির মধ্যে একটি যেখানে প্রশান্ত মহাসাগরীয় রিম অঞ্চলের বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণী যেমন কচ্ছপ, হাঙ্গর, ডলফিন, পেঙ্গুইন, শীল, কোরাল, জেলীফিশ, অক্টোপাস এবং আরও অনেক প্রাণী দেখতে পাওয়া যায়। এখানকার বিশাল আকৃতির হাঙ্গর ও বড় বড় পেঙ্গুইন দেখে মুগ্ধ হতে হয়। টেম্পোজান হারবারে রয়েছে ওসাকা পোর্ট এবং টেম্পোজান ফেরিস হুইল। এই হুইল থেকে ওসাকা উপসাগর ও পোর্টসহ চারিপাশের স্থানগুলির মনোরম দৃশ্য দেখা যায়।

এরপরে চলে এলাম ওসাকার শপিং স্ট্রিট ও বিনোদন স্থল দোতনবোরিতে যেটা আমেরিকার লাস ভেগাসের ফ্রিমন্ট স্ট্রিটের কথা মনে করিয়ে দিল। এখানে বিভিন্ন ধরনের বিনোদন, কেনাকাটা এবং নানা ধরণের জাপানি খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। দোতনবোরি নদীতে ভেসে ভেসে রাতের আকর্ষণীয় নিয়ন বিলবোর্ড ও উজ্জ্বল আলোকসজ্জা সারাজীবনের মতো স্মৃতির ঝুলিতে স্থান করে নেবে।
সাকুরা বা চেরিফুল জাপানের জাতীয় ফুল। প্রতি বছর বসন্তে অর্থাৎ মার্চের শেষ থেকে এপ্রিলের শুরুতে চেরি ফুল ফোটার সময় জাপানে উৎসব হয়। জাপান একটি শিল্পোন্নত ও প্রযুক্তিবিদ্যার দেশ। এখানকার পৃথিবীখ্যাত কিছু ইলেকট্রনিক এবং গাড়ির কোম্পানি যেমন সনি, প্যানাসনিক, ক্যানন, হিতাচি, তোশিবা, শার্প, নিকন এবং নিশান, টয়োটা, হোন্ডা, মিৎসুবিশি, সুজুকি, ইয়ামাহা ইত্যাদি যাদের সকল ভারতবাসী একনামে চেনেন।
নবম তথা শেষ দিনে সূর্যোদয়ের দেশ ভ্রমণের একবুক স্মৃতি নিয়ে ওসাকা শহর থেকে ৩৮কিমি দূরে ওসাকা উপসাগরের একটি কৃত্রিম দ্বীপে অবস্থিত কানসাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌছলাম। সকাল ১০:৫৫য় সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের বিমানে সাত ঘন্টায় সিঙ্গাপুর চাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে, কানেকটিং ফ্লাইট ধরে চার ঘন্টায় স্থানীয় সময় রাত ১০:১৫তে কলকাতায় ফিরলাম।